মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক , সোনারগাঁও নিউজ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে কাঁচপুর এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ট্যাক্সিস্ট্যান্ড দখলের চেষ্টা করেছে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বাবুল ওমর বাবুরের সন্ত্রাসী বাহিনী। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় হামলাকারীরা ৬ টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় ৪ জনকে কুপিয়ে আহত করে। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। ঘটনার পর সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক তদন্ত এস এম শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
ঘটনার পর ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক লিটন খাঁন ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদ আড়াই বছর ধরে কাঁচপুর ব্রিজের পাশে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) এর জমিতে একটি ট্যাক্সি স্ট্যান্ড তৈরি করে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। সোনারগাঁও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বাবুল ওমর বাবুর নজর পড়ে এ স্ট্যান্ডের উপর। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাইস চেয়ারম্যান বাবুল ওমর বাবুর সহযোগী স্থানীয় মনু মেম্বারের নেতৃত্বে তার ভাই মিজান, রেজাউল, বাপ্পী, নুরজ্জামান, জামানসহ ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল আগ্নেয়াস্ত্র ককটেল রাম দাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে স্ট্যান্ড দখলের জন্য হামলা চালায়। এসময় ৬ টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সাথে ২ রাইন্ড ফাঁকা গুলি করে হামলাকারীরা। এসময় লিটন খাঁনের কর্মী মারুফ, ওয়াসিম, পলাশ, ইকবালকে কুপিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় লিটন খান বলেন, আমরা নিরীহ মানুষ। ভাইস চেয়ারম্যান বাবুর নির্দেশে মনু মেম্বার প্রভাব দেখিয়ে স্ট্যান্ডের জায়গা দখলের চেষ্টা করে। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। আশা করি প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।
সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বাবুল ওমর বাবু বলেন, লিটন খাঁনের নেতৃত্বে এ স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করে থাকে। প্রতিটি গাড়ি থেকে তারা চাঁদা নেয়। আমার তিনটি গাড়ি থেকেও তারা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দাবির ঘটনা থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। ৫০টি মামলা হলেও তাদের চাঁদা নিতে দেওয়া হবে নাা।
সোনারগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ বা গুলির খবর আমার জানা নেই। সেখানে মারামারি ও গাড়ি ভাংচুর হয়েছে শুনেছি। এখনো থানায় কোন অভিযোগ কিংবা মামলা কেউ করেনি।
আপনার মতামত দিন